ব্যবসায় উদ্যোগ এ্যাসাইনমেন্ট ১ম সপ্তাহ প্রশ্ন-উত্তর

ব্যবসায় উদ্যোগ এ্যাসাইনমেন্ট ১ম সপ্তাহ প্রশ্ন-উত্তর

ব্যবসায় উদ্যোগ এ্যাসাইনমেন্ট ১ম সপ্তাহ প্রশ্ন-উত্তর

ব্যবসায় উদ্যোগ এ্যাসাইনমেন্ট ১ম সপ্তাহ প্রশ্ন-উত্তর বানিজ্য বিভাগে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষার ব্যবসায় উদ্যোগ এ্যাসাইনমেন্ট ১ম সপ্তাহের সমাধান নিচে উল্লেখ করা হলো:

ব্যবসায় উদ্যোগ এ্যাসাইনমেন্ট ১ম সপ্তাহ প্রশ্ন-উত্তর



বানিজ্য বিভাগে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষার ব্যবসায় উদ্যোগ এ্যাসাইনমেন্ট ১ম সপ্তাহের সমাধান নিচে উল্লেখ করা হলো:

স্তরঃ এস.এস.সি পরীক্ষা ২০২১

বিভাগঃ ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ

বিষয়ঃ ব্যবসায় উদ্যোগ

বিষয় কোডঃ ১৪৩

মোট নম্বরঃ ২০

অ্যাসাইনমেন্ট নম্বর-০১

অধ্যায় ও অধ্যায়ের শিরােনামঃ প্রথম অধ্যায়: ব্যবসায় পরিচিতি

ব্যবসায় উদ্যোগ এ্যাসাইনমেন্ট ১ম সপ্তাহ

অ্যাসাইনমেন্টঃ বাংলাদেশে ব্যবসায় সম্প্রসারণে ব্যবসায় পরিবেশের প্রভাব বিশ্লেষণ।

শিখনফল/বিষয়বস্তুঃ

১. ব্যবসায়ের সারণী ব্যাখ্যা করতে পারবাে, ২. ব্যবসায়ের প্রকারভেদ সফলভাবে বর্ণনা করতে পারবাে, ৩. ব্যবসায়ের উপর প্রভাব বিস্তারকারী পরিবেশের উপাদানগুলাে সঠিভাবে চিহ্নিত করতে পারবাে।

নির্দেশনা (সংকেত/ধাপ/পরিধি):

১. প্রয়ােজনে এবং সম্ভব হলে শিক্ষক/ সহপাঠী/পরিচিত ব্যবসায়ী /পরিজনের (মােবাইল ইন্টারনেটের সাহায্যে) ব্যবসায় পরিবেশ সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা ও ধারনা জেনে নেয়া যেতে পারে।

২. ব্যবসায়ের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারবে।

৩. ব্যবসায়ের প্রকারভেদ ছকে প্রদর্শন করে ব্যাখ্যা করতে হবে।

৪. ব্যবসায় পরিবেশ এর ধারণা ব্যাখ্যা করতে হবে।

৫. বাংলাদেশে ব্যবসায়িক পরিবেশ এর উপাদানগুলি বিশদভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে।

ব্যবসায় উদ্যোগ এ্যাসাইনমেন্ট ১ম সপ্তাহ উত্তর

বাংলাদেশের ব্যবসায় সম্প্রসারণে ব্যবসায় পরিবেশের প্রভাব বিশ্লেষণ।

সাধারণত মুনাফার উদ্দেশ্যে পরিচালিত, নিযুন্ত্রিত সকল অর্থনৈতিক কর্মকান্ডকে ব্যবসায় বলে। গত কয়েকদিন আগে আমি মাঠে খেলতে গিয়ে কয়েকজন বন্ধুকে প্রশ্ন করলাম যে, তাদের কার বাবা কি করে। কেউ বলল তার বাবার ঔষধের দোকান, কেউ বলল মুদির দোকান, শাড়ির দোকান, ইত্যাদি। তাদের অভিভাবকদের সবগুলাে কর্মকান্ডই অর্থনৈতিক কাজ ব্যবসায়ের অম্তর্ভুক্ত হবে যদি তারা জীবিকা নির্বাহ ও মুনাফার আশায় উক্ত কাজগুলাে করে থাকেন। মূলত মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে পরিচালিত অর্থনৈতিক কর্মকান্ডকে ব্যবসায় বলে। পরিবারের সদস্যদের জন্য খাদ্য উৎপাদন করা, হাস-মুরগি পালন করা, সবজি চাষ করাকে ব্যবসায় বলা যায় না।

কিন্তু যখন কোন কৃষক মুনাফার আশায় ধান চাষ করে বা সবজি চাষ। করাকে ব্যবসায় বলে গণ্য হবে। তবে মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত সকল অর্থনৈতিক কর্মকান্ড ব্যবসা বলে গণ্য হবে যদি সেগুলাে দেশের আইনে বৈধ ও সঠিক উপাযে পরিচালিত হয়। ব্যবসাযের আরও কিছু বৈশিষ্ট্য আছে, যা একে অন্যান্য পেশা থেকে আলাদা করেছে। ব্যবসায়ের সাথে জড়িত পণ্য বা সেবার অবশ্যই আর্থিক মূল্য থাকতে হবে। ব্যবসায়ের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলাে এর সাথে ঝুঁকির সম্পর্ক। মূলত মুনাফা অর্জনের আশাতেই ব্যবসায়ী অর্থ বিনিয়ােগ করে। ব্যবসায়িক কর্মকান্ডের মাধ্যমে মুনাফা অর্জনের পাশাপাশি অবশ্যই সেবার মনােভাব থাকতে হবে। বর্তমানে ব্যবসায় শুধু পণ্যদ্রব্যের ক্রয়-বিক্রয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আধুনিক ব্যবসাকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

ব্যবসায় উদ্যোগ এ্যাসাইনমেন্ট ১ম সপ্তাহ

শিল্প:
বাণিজ্য * প্রত্যক্ষ সেবা। শিল্পের উদাহরণ:
প্রজনন শিল্প (নার্সারি), নিষ্কাষণ শিল্প (খনিজ শিল্প), নিমার্ণ শিল্প (রাস্তাঘাট নির্মাণ), উৎপাদন শিল্প (বস্ত্ৰ শিল্প), সেবামূলক শিল্প (বিদ্যুৎ শিল্প) ইত্যাদি।
বাণিজ্যের উদাহরণ:

আমরা জানি, পরিবহন, গুদামজাতকরণ, ব্যাংকিং, বিমা, বিপণন ও বিজ্ঞাপন ইত্যাদির সাহায্যে বাণিজ্যের প্রতিবন্ধকতা দূর করা যায়।

প্রত্যক্ষ সেবা: অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্য স্বাধীন পেশায়। নিয়ােজিত ডাক্তার, উকিল প্রকৌশলী প্রভৃতি পেশাজীবীরা বিভিন্ন রকম সেবাকর্ম অর্থের বিনিময়ে প্রদান করে থাকেন। এ সকল সেবাকর্ম বা বৃত্তি প্রত্যক্ষ সেবা হিসেবে পরিচিত। যেমন ডাক্তারি, ক্লিনিক, আইন চেম্বার, শিক্ষা ইত্যাদি প্রত্যক্ষ সেবা আধুনিক ব্যবসায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা। পরিবেশ দ্বারা মানুষের জীবনধারা, আচার-আচরণ, শিক্ষা, সংস্কৃতি, অর্থনীতি এবং ব্যবসা প্রভাবিত হয়। পরিবেশ হলাে কোন অঞ্চলের জনগণের জীবনধারা ও অর্থনৈতিক কার্যাবলিকে প্রভাবিত করে এমন সব উপাদানের সমষ্টি।

পারিপার্শিক উপাদানের মধ্যে রয়েছে ভূপ্রকৃতি, জলবায়ু, নদনদী, পাহাড়, বনভূমি, জাত, শিক্ষা, সাগর ইত্যাদি যে সবপ্রাকৃতিক ও অপ্রাকৃতিক উপাদান দ্বারা ব্যবসায়িক সংগঠনের গঠন উন্নতি ও অবনতি প্রত্যক্ষ ও পরােক্ষভাবে প্রভাবিতহয়। সেগুলাের সমষ্টিকে ব্যবসায়ির পরিবেশ বলে। কোন স্থানের ব্যবসায়-ব্যবস্থার উন্নতি নির্ভর করে ব্যবসায়িক পরিবেশের উপর বহু প্রকারের ব্যবসায়িকপরিবেশ দেখতে পাওয়াগেলেওব্যবসায়িক পরিবেশের উপাদানগুলােকে প্রধানত ছয় ভাগে ভাগ করা যায়।

ব্যবসায় উদ্যোগ এ্যাসাইনমেন্ট ১ম সপ্তাহ

ক, প্রাকৃতিক পরিবেশ
খ, অর্থনৈতিক পরিবেশ
গ. রাজনৈতিক পরিবেশ
ঘ. সামাজিক পরিবেশ
ঙ. আইনগত পরিবেশ
চ. প্রযুক্তিগত পরিবেশ।

বর্তমান প্রতিযােগিতামূলক বিশ্বে ব্যবসায়িক পরিবেশের সকল উপাদান অনুকূল না হলে দিনের পর দিন ব্যবসা-বাণিজ্যে উন্নতি লাভ করে টিকে থাকা কঠিন। ব্যবসায়িক পরিবেশের প্রভাব বিস্তারকারী পরিবেশের ৪টি উপাদান। উদাহরণসহ আলোচনা করা হল:

প্রাকৃতিক উপাদান: প্রাকৃতিক পরিবেশের অধিকাংশ। উপাদানই বাংলাদেশে ব্যবসায় স্থাপনের জন্য অনুকূল। দেশের প্রায় সকল অংশই নদী বিধৌত। ফলে সহজেই এখানে কৃষিজাত বিভিন্ন শিল্প ভােগ্য পণ্যের কাঁচামাল উৎপাদন করা সম্ভব।

ব্যবসায় উদ্যোগ এ্যাসাইনমেন্ট ১ম সপ্তাহ

অর্থনৈতিক উপাদান: দেশে বিরাজমান কার্যকর অর্থ ও ব্যাংকিং ব্যবস্থা, কৃষি ও শিল্পের অবদান, জনগণের সনচয় ও বিনিয়ােগ মানসিকতা ও সরকারের পৃষ্ঠপােষকতা ব্যবসায় পরিবেশের সুদৃঢ় অর্থনৈতিক উপাদান হিসেবে কাজ করে। বাংলাদেশে অরথনৈতিক উপাদানগুলাের কযেকটির ভিত্তি বেশ মজবুত হলেও অনেকগুলাের ভিত্তি তেমন সুৃসামাজিক উপাদান; জাতি, ধর্মীয় বিশ্বাস, ভােক্তার মনােভাব, মানব সম্পদ, শিক্ষা ও সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্যবসায়ের সামাজিক উপাদানগুলাের বেশিরভাগ বাংলাদেশে ব্যবসায় প্রসারের ক্ষেত্রে অনুকূল। এ দেশের মানুষ জাতিগত, ঐতিহ্যগত এবং সাংস্কৃতিকভাবে উদার, ন্যায়পরায়ন, পরিশ্রমী এবং সৃজনশীল। অতীতে জাহাজ নিমাণ করে এবং মসলিন কাপড় উৎপাদন করে এ দেশের মানুষ তাদের প্রতিভা ও পরিশ্রমের স্বাক্ষর রেখেছে।

রাজনৈতিক উপাদান: সুষ্ঠ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি। এবং অনুকূল শিল্প ও বাণিজ্যনীতি, প্রতিবেশী ও অন্যান্য দেশের সাথে সুসম্পর্ক ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারে সহায়তা। করে। অন্যদিকে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, ঘন ঘন সরকার পরিবর্তন হরতাল, ধর্মঘট ব্যবসায়-বান্ধব শিল্প ও বাণিজ্য নীতির অভাব ইত্যাদি প্রতিকূল রাজনৈতিক। উপাদান শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসারে বাধা সৃষ্টি করে।

আইনগত উপাদান: আইনগত পরিবেশের বেশ কিছু উপাদান বাংলাদেশে আধুনিক ও যুগােপযােগী হলেও কিন্তু অনেকগুলাে বেশ পুরাতন। পরিবেশ সংরক্ষণ ও ভোক্তা অধিকার আইনের কঠোর প্রয়ােগ, শিল্প ও বিনিয়ােগ বান্ধব আইন তৈরি দুর্নীতি, ও চাঁদাবাজি প্রতিরােধে আইনের কঠোর প্রয়ােগের মাধ্যমে দেশের ব্যবসা বাণিজ্যের উন্নতি নিশ্চিত করা যায়।

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post